news-details
কলকাতা

থেমে গেল পরিচিত কণ্ঠ, প্রয়াত সাংবাদিক-সঞ্চালিকা পাপিয়া সিংহ দেবনাথ

থেমে গেল পরিচিত কণ্ঠ, প্রয়াত সাংবাদিক-সঞ্চালিকা পাপিয়া সিংহ দেবনাথ


কলকাতা: সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট। পুজোর আবহে আচমকাই নেমে এল বিষাদের ছায়া। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রয়াত হলেন এবিপি আনন্দের জনপ্রিয় সাংবাদিক ও সঞ্চালিকা পাপিয়া সিংহ দেবনাথ। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন পাপিয়া। চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মারণরোগের কাছে হার মানতে হল তাঁকে। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংবাদমাধ্যমের অন্দরে।


টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর পরিচিত কণ্ঠ বহু দর্শকের কাছে ছিল অত্যন্ত আপন। খবরের জটিল বিষয়কে সহজভাবে তুলে ধরা, ঘটনাকে বিশ্লেষণ করা কিংবা ব্রেকিং নিউজের মুহূর্তে দ্রুত ও সাবলীলভাবে দর্শকের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন পাপিয়া।
রাজনীতি থেকে বিনোদন, খবর থেকে বিশেষ অনুষ্ঠান—বিভিন্ন ধরনের সাংবাদিকতার কাজেই সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন তিনি। বিশেষ করে পুজোর সময় বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে বারবার। অসুস্থতার মধ্যেও হাসিমুখে কাজ করে যাওয়ার সেই মানসিকতাই তাঁকে সহকর্মীদের কাছেও করে তুলেছিল আলাদা।
১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ জন্ম পাপিয়া সিংহ দেবনাথের। সাংবাদিকতার পেশাকে শুধু কাজ হিসেবে নয়, ভালোবাসা হিসেবেই দেখতেন তিনি। ব্যস্ত কর্মজীবন, ব্যক্তিগত দায়িত্ব—সবকিছুর মাঝেও জীবনকে উপভোগ করতে চাইতেন পাপিয়া। প্রকৃতি ও বাগান করার প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ টান। গাছে ফুল ফুটলে সেই আনন্দ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়া ছিল তাঁর অন্যতম পছন্দের কাজ।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই উজ্জ্বল দিকটির পাশাপাশি পেশাগত ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর গভীর নিষ্ঠা। সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁর কণ্ঠ, আত্মবিশ্বাস এবং বিষয় বিশ্লেষণের ধরন তৈরি করেছিল নিজস্ব পরিচয়।
পাপিয়ার চলে যাওয়ার খবর আরও এক পুরনো স্মৃতিকে সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর, প্রয়াত সহকর্মী ও এবিপি আনন্দের সাংবাদিক-সঞ্চালিকা সন্দীপ্তা চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে আবেগঘন বার্তা লিখেছিলেন পাপিয়া। সহকর্মী থেকে বন্ধুত্বে পৌঁছে যাওয়া সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন তিনি।
কে জানত, কয়েক মাসের মধ্যেই একইভাবে স্মৃতির পাতায় চলে যাবেন পাপিয়াও।
পুজোর আবহে যখন শহর-রাজ্য উৎসবে মেতে, ঠিক সেই সময়েই থেমে গেল তাঁর পথচলা। তবে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর কণ্ঠ, তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া অসংখ্য স্মৃতি থেকে যাবেই।
পাপিয়া সিংহ দেবনাথ নেই। কিন্তু তাঁর স্মৃতি রয়ে যাবে—খবরের ফাঁকে, পুজোর লাইভে, সহকর্মীদের কথায় এবং দর্শকদের মনে।

You can share this post!